Studypress News
৪০ বছরের তথ্যভান্ডার উধাও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে
30 Aug 2023

দেশের কৃষি বাজারের পরিস্থিতি, পণ্যের দাম কতটা ওঠানামা করছে, দেশে কত বাজার রয়েছে, অর্থাৎ বাজারের হালচাল জানার জন্য কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট অনেকেরই ভরসা। প্রায় ৪০ বছরের বাজারসম্পর্কিত বিশাল এক তথ্যভান্ডার ছিল তাদের। এক মাসের বেশি সময় ধরে সেটি উধাও।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কেউ বলছেন, ওয়েবসাইট হালনাগাদের কাজ চলছে বলে তথ্যভান্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। আবার এমন গুঞ্জনও আছে যে, ওয়েবসাইটের কোনো এক কাজ করতে গিয়ে পুরো তথ্যভান্ডার মুছে গেছে। কেউ আবার বলছেন, হার্ডডিস্ক ক্র্যাশ করেছে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, দ্রুতই তথ্যগুলো আগের মতো ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। তারা কৃষিপণ্যের চাহিদা ও জোগান, মজুত ও মূল্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে কৃষিপণ্যের মূল্য ধারার আগাম প্রক্ষেপণ এবং এ বিষয়ে তথ্য ব্যবস্থাপনা করে।
"হালানাগাদের কাজ চলছে বিধায় তথ্যগুলো পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন সফটওয়্যার এলে এক সপ্তাহের মধ্যেই সব ঠিক হয়ে যাবে।" - মাসুদ করিম, অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
এর আওতায় তারা ১৯৮০ সালের পর থেকে বাজারসংক্রান্ত তথ্যের এক বিশাল তথ্যভান্ডার গড়ে তুলেছিল; যা তাদের ওয়েবসাইটেও পাওয়া যেত। যেখানে বাজার গবেষণা, বাজারের পরিস্থিতি, তুলনামূলক হিসাব, পণ্যের দাম কত বাড়ছে বা কমছে ইত্যাদি তথ্য ছিল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মূলত দুটি সাইট। একটি নিজেদের তৈরি, যেখানে এই তথ্যভান্ডার ছিল। আরেকটি এটুআই থেকে সরকারিভাবে বানিয়ে দেওয়া। কর্মকর্তারা জানান, এজেন্সি টু ইনোভেট (এটুআই) থেকে বানিয়ে দেওয়া ওয়েবসাইটে মূলত নোটিশ, বিজ্ঞপ্তি, বার্ষিক প্রতিবেদন, কর্মকর্তাদের তথ্যের মতো নানা বিষয় দেওয়া হতো। তাঁরা আরও বলেন, সরকারিভাবে বানিয়ে দেওয়া সাইটগুলো একই ধরনের দেখতে (কমন টেমপ্লেট) হয়। সেখানে নির্ধারিত কিছু বিষয়ের বাইরে অন্য কোনো কাজ করা যায় না। তথ্যভান্ডারের জন্য যে ওয়েবসাইটটি আছে, সেটি অনেক আগে করা হয়েছিল। সেই ওয়েবসাইটের সঙ্গে এটুআইয়ের বানিয়ে দেওয়া ওয়েবসাইট যুক্ত করে দেওয়া আছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত ২৪ জুলাই থেকে ওয়েবসাইটে তথ্যভান্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। শুরুতে কিছুদিন ওয়েবসাইটও বন্ধ ছিল। পরে ওয়েবসাইট চালু হলেও তথ্যগুলো মিলছে না। ওয়েবসাইটে ঢুকে দৈনিক বাজারদর খুঁজতে গেলে বিভাগ ও জেলাতে ক্লিক করার পর আর কোনো অপশন আসে না। একই রকম হয় বাজারদরের অন্যান্য বিষয় খুঁজতে গেলে।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৩-১৪ সাল থেকে এই ওয়েবসাইটে প্রতিদিন বাজারের তথ্য সরাসরি হালনাগাদ (লাইভ আপডেট) হয়ে আসছিল। এখন যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না তার মধ্যে রয়েছে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে গত প্রায় ৪০ বছরের ২৭১টি কৃষিপণ্যের বাজারমূল্য, দেশের ৮২ হাজার বাজারের তথ্য।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে এ সংস্থায় প্রথমবারের মতো একজন প্রোগ্রামার নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই প্রোগ্রামার আল আমিন সরকার প্রথম আলোকে বলেন, হার্ডডিস্ক ক্র্যাশ করেছে। গত ২৪ জুলাই থেকে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করছেন। তাঁর দাবি, আগে যাঁরা কাজ করেছেন, তাঁরা এর কোনো ব্যাকআপ (বিকল্প সংরক্ষণ ব্যবস্থা) রাখেনি। সার্ভারও অনেক পুরোনো।
তবে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ওয়েবসাইটটি দেখভাল করতে গিয়ে বাজারদরের তথ্য ভান্ডার মুছে গেছে। এত দিন প্রোগ্রামার ছাড়াই বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এটি দেখাশোনা করতেন।
জানতে চাইলে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মাসুদ করিম তথ্যভান্ডার মুছে যাওয়ার বিষয়টিকে ‘গুজব ছড়ানো হয়েছে’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হালানাগাদের কাজ চলছে বিধায় তথ্যগুলো পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন সফটওয়্যার এলে এক সপ্তাহের মধ্যেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
"বিপুল তথ্যের এই ভান্ডার যদি পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়, তাহলে পুনরুদ্ধার করার কথাই ভাবা প্রয়োজন। এ ধরনের তথ্যভান্ডারের অবশ্যই ব্যাকআপ থাকা উচিত।" - বি এম মইনুল হোসেন, অধ্যাপক, তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৩-১৪ সাল থেকে এই ওয়েবসাইটে প্রতিদিন বাজারের তথ্য সরাসরি হালনাগাদ (লাইভ আপডেট) হয়ে আসছিল। এখন যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না তার মধ্যে রয়েছে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে গত প্রায় ৪০ বছরের ২৭১টি কৃষিপণ্যের বাজারমূল্য, দেশের ৮২ হাজার বাজারের তথ্য।
এ ছাড়া হিমাগারে আলু রক্ষণাগারের তথ্যভান্ডার, ২০টির বেশি কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচের তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না। এসব তথ্যের কোনো ডিজিটাল ব্যাকআপও নেই। বাজারসম্পর্কিত তথ্য প্রতিনিয়ত ২২টির বেশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করে থাকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ওয়েবসাইট থেকে তথ্য দিয়ে দেওয়া যেত। এখন সে সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তথ্য খুঁজে জোগাড় করে তা দিতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা গবেষণাসহ বিভিন্ন কাজে এই অধিদপ্তরের তথ্য ব্যবহার করে থাকে। খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিসটিকস অ্যান্ড বায়োইনফরম্যাটিকস বিভাগের প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) হুমায়রা ইয়াসমিন প্রথম আলোকে বলেন, নিয়মিত এই ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করতেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বিপুল তথ্যের এই ভান্ডার যদি পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়, তাহলে পুনরুদ্ধার করার কথাই ভাবা প্রয়োজন। এ ধরনের তথ্যভান্ডারের অবশ্যই ব্যাকআপ থাকা উচিত। ওয়েবসাইট দেখভালের বেলায় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানেরই স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং সিস্টেমও থাকা দরকার।
Important News

Highlight of the week
