আইনস্টানের মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্ত

আইনস্টানের মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্ত

12 Feb 2016

বিজ্ঞানের দুনিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এক দিন হিসেবেই বিবেচিত হল ২০১৬ এর ১১ ফেব্রুয়ারি। গবেষকেরা জানালেন, যন্ত্রে ধরা পড়েছে মহাকর্ষীয় তরঙ্গের অস্তিত্ব। এমন তরঙ্গের অস্তিত্ব যে থাকতে পারে, তা জানা গিয়েছিল ঠিক ১০০ বছর আগে।  আইনস্টাইনের ‘জেনারেল রিলেটিভিটি’-র তত্ত্ব থেকে। বাস্তবে সেই তরঙ্গের অস্তিত্ব শনাক্ত করতে লেগে গেল ১০০ বছর। ওয়াশিংটনে ‘ইউএস ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন’-এর বৈঠকে বিজ্ঞানী ডেভিড রিৎজ ঘোষণা  দিলেন,‘‘আমরা মহাকর্ষীয় তরঙ্গের খোঁজ পেয়েছি।’’ ১৯১৫ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় আইনস্টানের ‘জেনারেল রিলেটিভিটি’-র তত্ত্ব। ওই তত্বের একটি পূর্বাভাসের প্রমাণ মেলাতে পারছিল না বিজ্ঞানীরা। সেটা হলো মহাকর্ষীয় তরঙ্গ (গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ)। তত্ত্ব অনুযায়ী বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমেই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছিল। ১৪০০ কোটি বছর আগের ওই মহাবিস্ফোরণের পর যে উত্তাল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছিল, সেটাই মহাকর্ষীয় তরঙ্গ। পুকুরে ঢিল ফেললে যেমন ঢেউ ছড়াতে ছড়াতে সেটি পাড়ে পৌঁছ, তেমনই এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে এখনো ওই মহাকর্ষীয় তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ছে। আর চারপাশে অসম্ভব দ্রুতগতিতে এখনো প্রসারিত হয়ে চলেছে মহাবিশ্ব। ১০০ বছর পর সঠিক প্রমাণিত হলো আইনস্টাইনের তত্ত্ব। বিজ্ঞানী রিৎজ জানিয়েছেন, ১৩০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে সূর্যের চেয়ে ২৯ গুণ এবং ৩৬ গুণ ভারী দু’টো ব্ল্যাকহোল একে অন্যের সঙ্গে মিশে একটা ব্ল্যাকহোলে পরিণত হওয়ার সময় ওদের চারপাশে ‘স্পেসে’ যে তরঙ্গের সৃষ্টি হয়েছিল, তা গত বছর ১৪ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর যন্ত্রে ধরা পড়েছিল। মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্তের জন্য বিজ্ঞানীরা লেজার রশ্মি ভ্রমণ করতে পারে এমন চার কিলোমিটার দীর্ঘ টানেল তৈরি করেন। লেজার ইন্টারফেরোমিটার গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েব অভজারভেটরি (এলআইজিও-লাইগো) নামে পরিচিত এই সিস্টেম একটি পরমাণুর ব্যাসের ১০ হাজার ভাগের এক ভাগ পর্যন্ত সূক্ষ্ম দৈর্ঘ্য পরিমাপ করতে পারে। মহাকর্ষীয় তরঙ্গের প্রভাবে এই লেজার রশ্মিই অতি সামান্যতম বিচ্যুতিও পরিমাপের ব্যবস্থা করা হয় ওই টানেলে। মহাকষীয় তরঙ্গের খোঁজে একসাথে কাজ করেন ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং লেজার ইন্টারফেরোমিটার গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েব অভজারভেটরির (এলআইজিও-লাইগো) গবেষকরা। এ আবিষ্কারের ফলে মহাবিশ্বকে জানার নতুন দুয়ার খুলে গেল। মহাকর্ষীয় তরঙ্গ কি? স্পেস বা শূন্যস্থানের কাঁপন। এই কাঁপনের ফলে শূন্যস্থানের আয়তন একবার বাড়ে পরক্ষণেই কমে। অর্থাৎ কোন জায়গার দৈর্ঘ বা প্রস্থ বড়-ছোট, ছোট বড় হতে থাকে। কিভাবে এই তরঙ্গের সৃষ্টি হয়? পুকুরে ঢিল ছোঁড়া হলে যেমন ঢেউ তৈরি হয় তেমনি মহাশূন্যে ভারী বস্তু নড়াচড়া করলে বা ঘুরলে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ সৃষ্টি হয়। (সূত্র: বিবিসি)      

Details

আটকে পড়াদের উদ্ধার করবে ‘তেলাপোকা রোবট’

আটকে পড়াদের উদ্ধার করবে ‘তেলাপোকা রোবট’

09 Feb 2016

তেলাপোকা আকৃতির একটি রোবট তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা। এই রোবটটি ভূমিকম্পের পর আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, রোবটটি পোকামাকড়ের মতো চলাচল করে। এর ফলে যেকোন ধ্বংসস্তুপ বা ময়লার ভিতর দিয়ে যাতায়াত করা সম্ভব হবে।রোবটটিতে থাকা ক্যামেরা ধসে পড়া বাড়ির ভিতরে ঢুকে ছবি পাঠাতে পারবে। এতে করে ভূমিকম্পের শিকার কোন এলাকায় মাটি বা ভবনের নীচে আটকে পড়াদের অবস্থান সহজেই জানা যাবে। তেলাপোকার মতোই এটি যেকোনো জায়গা বা উঁচুতে উঠে পড়তে পারে। ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সের একটি জার্নালে এই আবিষ্কারের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। (ছবি: দ্য টেলিগ্রাফ)

Details