23 May 2018

আগ্নেয়গিরি হলো বিশেষ ধরনের পাহাড় যার ভেতর দিয়ে ভূ-অভ্যান্তরের উত্তপ্ত ও গলিত পাথর, ছাই এবং গ্যাস বেরিয়ে আসতে পারে। এটি একটি ভৌগোলিক প্রক্রিয়া। কোনো কোনো ফাটল বা ছিদ্রপথ দিয়ে ভূগর্ভস্থ গরম বাতাস, জলীয় বাষ্প, গলিত শিলা, কাদা, ছাই, গ্যাস প্রবল বেগে বেরিয়ে আসে। নির্গত এই সকল পদার্থ ভূপৃষ্ঠের শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে দ্রুত ঠান্ডা হয়ে কঠিন আকার ধারণ করে যার কিছুটা ফাটলের চারপাশে এসে ধীরে ধীরে জমা হয়ে মোচাকৃতি পর্বতের লাভ করে। তখন একে আগ্নেয়গিরি বলে। আগ্নেয়গিরি থেকে ভূগর্ভস্থ পদার্থের নির্গমনকে বলা হয় অগ্ন্যুৎপাত। আগ্নেয়গিরির বহিঃস্থ যে মুখ বা নির্গমনপথ দিয়ে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে, তাকে জ্বালামুখ বলে।

আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের উপর ভিত্তি করে আগ্নেয়গিরিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায় ।  সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, সুপ্ত আগ্নেয়গিরি,  মৃত আগ্নেয়গিরি।

সক্রিয় আগ্নেয়গিরি

Active Volcano
যে সব আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এখনও বন্ধ হয়নি অর্থাৎ তাদের লাভার উদগিরন এখনো হচ্ছে, তাদেরকে বলে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি বলে। যেমন-হাওয়ায় দ্বীপ পুঞ্জের মনালোয়া আগ্নেয়গিরি।

 

সুপ্ত আগ্নেয়গিরি
যে সব আগ্নেয়গিরির  অগ্ন্যুৎপাত অনেক কাল আগে  বন্ধ হয়ে গেছে; কিন্তু যে কোন সময় আবার অগ্ন্যুৎপাত শুরু হতে পারে সে সব আগ্নেয়গিরিকে বলা হয় সুপ্ত আগ্নেয়গিরি। যেমন, ইটালির ভিসুভিয়াসকে সুপ্ত আগ্নেয়গিরি হিসেবে ধরা হয় ।

মৃত আগ্নেয়গিরি
যে সব আগ্নেয়গিরি দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে এবং ভবিষ্যতেও অগ্ন্যুৎপাতের সম্ভাবনা নেই সেগুলোকে বলা হয়  মৃত আগ্নেয়গিরি। যেমন, তাঞ্জানিয়ার মাউন্ট কিলিমাঞ্জারোকে মৃত আগ্নেয়গিরি ধরা হয়।

 

আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণ
১। ভূ-ত্বকের দুর্বল স্থান বা ফাটল দিয়ে ভূ অভ্যন্তরের গলিত ম্যাগমা,ভস্ম, ধাতু  প্রবল বেগে বের হয়ে অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়।
২। কখনো কখনো ভূ-ত্বকের ফাটল দিয়ে নদী-নালা,খাল-বিল এবংসমুদ্রের পানি  ভূগর্ভে প্রবেশ করলে প্রচন্ড উত্তাপে বাষ্পীভূত হয়। ফলে আয়তন বৃদ্ধি পেয়ে ভূত্বক ফাটিয়ে দেয়। তখন ঐ ফাটলের ভিতর দিয়ে পানি, বাষ্প, তপ্ত শিলা প্রভৃতি নির্গত হয়ে অগ্ন্যুৎপাত ঘটাতে পারে ।
৩। ভূ-আন্দোলনের সময় পার্শ্বচাপে ভূত্বকের দূর্বল অংশ ভেদ করে এ উত্তপ্ত তরল লাভা উপরে উত্থিত হয়।এভাবে ভূআন্দোলনের ফলে ও অগ্ন্যুৎপাত হতে পারে।
৪। ভূগর্ভে নানা রাসায়নিক ক্রিয়াও বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থের প্রভাবে প্রচুর তাপ বৃদ্ধি পেয়ে গ্যাসের সৃষ্টি হয়। তাতে ভূঅভ্যন্তরের চাপ বৃদ্ধি পায় এবং অগ্ন্যুৎপাত  ঘটে।

অগ্ন্যুৎপাতের ফলাফল
অগ্নুৎপাতের ফলে মালভূমির সৃষ্টি হয়, দ্বীপের সৃষ্টি হয়, ভূপৃষ্টের কোনো অংশ ধ্বসে  গভীর গহ্বরের সৃষ্টি  হতে পারে, আগ্নেয় হ্রদের সৃষ্টি হয়,লাভা উদগিরনের ফলে পর্বতের সৃষ্টি হতে পারে , লাভা সঞ্চিত হতে হতে বিস্তৃত এলাকা নিন্ম সমভূমিতে পরিনত হতে পারে,  গ্রাম,নগর,কৃষিক্ষেত্র  ধবংস হয়ে যেতে পারে অনেক সময়  ভূমির উর্বতা বৃদ্ধি  পায়, ভু অভ্যন্তরে থাকা নানা খনিজ পদার্থ নির্গত হতে পারে।

কয়েকটি আগ্নেয়গিরি :
১) জাপানের উপকূলীয় এলাকার কাছে সমুদ্রগর্ভে অবস্থিত তামু ম্যাসিফ আগ্নেয়গিরিটির খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল দুই দশক আগে। তামু মাসিফের বিস্তার এক লাখ ২০ হাজার বর্গমাইলের মতো, যা প্রায় ব্রিটিশ আইলসের সমান।

Volcano-Studypress

আর সেই আগ্নেয়গিরির বয়স আনুমানিক সাড়ে ১৪ কোটি বছর। সেজার বলেন, তামু মাসিফ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আগ্নেয়গিরি। মঙ্গলগ্রহে অবস্থিত গোটা সৌরজগতের সবচেয়ে বড় আগ্নেয়গিরি অলিম্পাস মনসের সঙ্গেই কেবল তুলনা চলে তামু মাসিফের। 
তামু মাসিফ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আগ্নেয়গিরি। মঙ্গলগ্রহে অবস্থিত গোটা সৌরজগতের সবচেয়ে বড় আগ্নেয়গিরি অলিম্পাস মনসের সঙ্গেই কেবল তুলনা চলে তামু মাসিফের।
২) ওডসডেক স্যালাডো-চিলি
৩) লুল্ল্যাইল্ল্যাকো-চিলি
৪) নাসিমিন্টো ডি জ্যান্ডল-আন্দিজ
৫) সেরো নেগ্রো-আন্দিজ
৬) নিভাদো ডি ট্রিজ ক্রুসিস-আন্দিজ
৭) ভ্যালাডিরো-আন্দিজ
৮) নিভাদো ডি ইনক্যাহুসী-আন্দিজ
৯) সাজামা-আন্দিজ
১০) সেরো ইল কনডোর-আর্জেন্টিনা
১১) টিপাস-আর্জেন্টিনা

 এক নজরে..
- স্মিথ সোনিয়ান ইনস্টিটিউটের ভলকানোজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড বুক-এর তথ্যমতে, পৃথিবীতে জীবন্ত আগ্নেয়গিরির সংখ্যা ১৫১১টি।
- বিশ্বের ৯০ শতাংশ জীবন্ত আগ্নেয়গিরির অবস্থান দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে। এ অঞ্চলে রয়েছে ১১০০- এর অধিক সক্রিয় বা জীবন্ত আগ্নেয়গিরি। এত বেশি সংখ্যক আগ্নেয়গিরির অবস্থানের কারণে এ অঞ্চলকে বলা হয় রিং অব ফায়ার বা অগনিবলয়।
- ইতালির ভিসুভিয়াসের অগ্ন্যুৎপাতই বিশ্বের সর্বপ্রথম আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত। 

Vesuvius-Studypress
- উনিবিংশ শতকে বিশ্বে সবচেয়ে বিপর্যয়কর ও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে ইন্দোনেশিয়ায়। ১৮১৫ সালে জাভার তামেবারা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে প্রায় ৯২ হাজার মানুষ নিহত হয়।
- সবচেয়ে উত্তপ্ত লাভা নির্গত হয় হাওয়াই দ্বীপের আগ্নেয়গিরি থেকে। লাভার উত্তাপ থাকে প্রায় ১১৭০ ডিগ্রি সেন্টিগেড।
- বিশ্বের উচ্চতম আগ্নেয়গিরি হলো ‘ওহোস ডেল সালাডো’।এটি চিলি ও আর্জেন্টিনা সীমান্তে অবস্থিত।

ojos del salado
- বিশ্বের সর্ববৃহৎ আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ ইন্দোনেশিয়ায় টোবা। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭৭৫ বর্গ কিলোমিটার।
- জাপানে প্রায় ২০০টি আগ্নেয়গিরি রয়েছে। এর মধ্যে ৬০টিরও বেশি জীবন্ত।
- খ্রিষ্টপূর্ব ৭৯ অব্দে মাউন্ট ভিসুভিয়াসের লাভার নিচে চাপা পড়ে ধ্বংস হয়ে যায় ইতালির “পম্পেই” এবং “হারকিউলানিয়াম” নামে দুইটি শহর।


BCS PRELIMINARY & WRITTEN

Learn from scratch to become a first class officer.


BANK JOBS

A huge collection of Bank Job Questions to guide you through.


NTRCA

Easy and simple way to succeed.


GOVT. JOBS

StudyPress has solutions of ALL previous govt job tests.


MBA ADMISSION TEST

Worried about Math and English? Try Studypress


CURRENT NEWS

Every Important News updates for Job Preparation.


MISTAKE LIST

Something you will find nowhere else, but you need the most.


ALL PREVIOUS QUESTION & SOLUTIONS

The test was held yesterday? Solution is here!!


Login Now